ডিসমিসিভ এভয়েডেন্ট অ্যাটাচমেন্ট স্টাইলের ব্যক্তি এবং নার্সিসিজম (স্বার্থপরতা বা আত্মম্ভরিতা) বিশিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে কিছু মূল পার্থক্য
ডিসমিসিভ এভয়েডেন্ট অ্যাটাচমেন্ট স্টাইলের ব্যক্তি এবং নার্সিসিজম (স্বার্থপরতা বা আত্মম্ভরিতা) বিশিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে কিছু মূল পার্থক্য রয়েছে। নিচে সেগুলো তুলে ধরা হলো:
১. আবেগগত ঘনিষ্ঠতার প্রতি মনোভাব:
ডিসমিসিভ এভয়েডেন্ট: তারা আবেগগত ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে চলে এবং স্বাধীনতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। তারা সম্পর্কে দূরত্ব বজায় রাখতে চায়।
নার্সিসিস্ট: তারা আবেগগত ঘনিষ্ঠতা ব্যবহার করতে পারে নিজের প্রয়োজন বা লাভের জন্য, কিন্তু সত্যিকার অর্থে অন্যের অনুভূতির প্রতি সংবেদনশীল নয়।
২. অন্যের প্রতি মনোভাব:
ডিসমিসিভ এভয়েডেন্ট: তারা অন্যের আবেগ বা চাহিদাকে উপেক্ষা করতে পারে, কিন্তু এটি সাধারণত ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে নয়।
নার্সিসিস্ট: তারা অন্যের অনুভূতি বা চাহিদাকে গুরুত্ব দেয় না এবং প্রায়ই অন্যের উপর নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে।
৩. আত্মবিশ্বাস এবং আত্মমর্যাদা:
ডিসমিসিভ এভয়েডেন্ট: তাদের আত্মবিশ্বাস প্রকৃতপক্ষে উচ্চ হতে পারে, কিন্তু এটি প্রায়ই একটি প্রতিরক্ষামূলক কৌশল, যাতে তারা আবেগগতভাবে আহত না হয়।
নার্সিসিস্ট: তাদের আত্মবিশ্বাস প্রায়ই ভঙ্গুর এবং বাহ্যিক validation (স্বীকৃতি) এর উপর নির্ভরশীল। তারা নিজেকে অন্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করে।
৪. সম্পর্কে প্রতিশ্রুতি:
ডিসমিসিভ এভয়েডেন্ট: তারা দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক বা প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ হতে ভয় পায় এবং দূরত্ব বজায় রাখে।
নার্সিসিস্ট: তারা সম্পর্কে থাকতে পারে, কিন্তু সেটা নিজের প্রয়োজন বা লাভের জন্য। তারা সঙ্গীর উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়।
৫. অন্যের সাহায্য বা সমর্থন নেওয়া:
ডিসমিসিভ এভয়েডেন্ট: তারা অন্যের সাহায্য নিতে অনিচ্ছুক এবং নিজেই সবকিছু সামলাতে চায়।
নার্সিসিস্ট: তারা অন্যের সাহায্য বা সমর্থন নিতে পারে, কিন্তু সেটা নিজের সুবিধার জন্য এবং প্রায়ই কৃতজ্ঞতা দেখায় না।
৬. সমালোচনার প্রতি প্রতিক্রিয়া:
ডিসমিসিভ এভয়েডেন্ট: সমালোচনাকে তারা উপেক্ষা করতে পারে বা এড়িয়ে যেতে পারে, কিন্তু এটি তাদের আত্মমর্যাদাকে তেমন প্রভাবিত করে না।
নার্সিসিস্ট: সমালোচনা তারা সহ্য করতে পারে না এবং প্রায়ই রাগান্বিত বা প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে।
৭. অন্যের প্রতি সহানুভূতি:
ডিসমিসিভ এভয়েডেন্ট: তারা অন্যের অনুভূতি বুঝতে পারে, কিন্তু তা প্রকাশ করতে বা প্রতিক্রিয়া দেখাতে অনীহা থাকে।
নার্সিসিস্ট: তাদের মধ্যে প্রকৃত সহানুভূতির অভাব থাকে এবং তারা অন্যের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেয় না।
সারমর্ম:
ডিসমিসিভ এভয়েডেন্ট ব্যক্তিরা মূলত আবেগগত দূরত্ব বজায় রাখে এবং স্বাধীনতাকে প্রাধান্য দেয়, অন্যদিকে নার্সিসিস্ট ব্যক্তিরা অন্যের উপর নিয়ন্ত্রণ খাটানোর চেষ্টা করে এবং নিজের প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। উভয়েই সম্পর্কে জটিলতা তৈরি করতে পারে, কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য এবং আচরণের ধরন আলাদা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন